রাস্তায় মোটরসাইকেল চালানোর সময় কেউ ভুলবশত হেলমেট রেখে এলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ তার গাড়ি আটক করে মামলা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গুনতে হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। তবে প্রশ্ন উঠেছে আইনের এই কঠোরতা কি সবার জন্য সমান? রৌমারী উপজেলায় বছরের পর বছর ধরে অবাধে চলাচল করছে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কাকড়া গাড়ি (স্থানীয়ভাবে পরিচিত), যার কারণে ঘটছে একের পর এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ, পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অনেকে। অথচ এসব প্রাণঘাতী যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, উপজেলার বিভিন্ন সড়কে প্রকাশ্যেই অবৈধভাবে জমির টপ সয়েল (উপরের উর্বর মাটি) কেটে ট্রাক ও কাকড়া গাড়িতে করে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত ভারী যান চলাচলের ফলে সড়ক মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
শুধু তাই নয়, শব্দ দূষণও রৌমারীবাসীর জন্য বড় এক আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। নিয়ম না মেনে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো এসব কাকড়া গাড়ি দিন-রাত চলাচল করায় শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসী আরও জানান, কাঠালবাড়ি এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে এবং ফলুয়ারচর ঘাট থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। এসব বালি ও মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত কাকড়া গাড়ি। এতে নদীভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন “অবৈধ এসব কর্মকাণ্ড কি প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে হচ্ছে? নাকি সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করেই চলছে?” তাদের দাবি, হেলমেট না পরার মতো ছোট অপরাধে যদি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে মানুষের জীবননাশের কারণ হয়ে দাঁড়ানো অবৈধ যানবাহন, মাটি ও বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে কেন কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না? এ বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ কাকড়া গাড়ি চলাচল বন্ধ, অবৈধ টপ সয়েল ও বালি উত্তোলন রোধ এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
🔗 এই খবরটি শেয়ার করুন:
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
৪৩তম বিসিএসের ২২৭ জনের প্রজ্ঞাপন হয়নি এখনো, রোববারের মধ্যে প