আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। উপজেলার মোট ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন ১নং দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নে ডা. মফিজ উদ্দিন, ২নং শৌলমারী ইউনিয়নে মাওলানা শামসুল আলম, ৩নং বন্দবেড় ইউনিয়নে মো. আলী হোসেন (এমএসসি), ৪নং রৌমারী সদর ইউনিয়নে প্রভাষক শাহাদাত হোসেন এবং ৬নং চরশৌলমারী ইউনিয়নে মো. আশিকুর রহমান। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ঘোষিত প্রার্থীদের প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ এলাকায় সামাজিক, শিক্ষামূলক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে তাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে তারা মনে করেন। দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের প্রার্থী ডা. মফিজ উদ্দিন এর আগে দুইবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি আবারও আলোচনায় এসেছেন। শৌলমারী ইউনিয়নের প্রার্থী মাওলানা শামসুল আলম দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি এ ইউনিয়নের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। বন্দবেড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পাওয়া মো. আলী হোসেন স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনের পরিচিত মুখ। তিনি রৌমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রার্থীতা ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।রৌমারী সদর ইউনিয়নের প্রার্থী প্রভাষক শাহাদাত হোসেন উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। চরশৌলমারী ইউনিয়নের প্রার্থী মো. আশিকুর রহমান ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি। তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ।স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত প্রার্থীরা যদি জনসাধারণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, তাহলে ভোটারদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হতে পারেন। তবে নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অবস্থান এবং ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।